মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল বুধবার যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিবসটি পালনের কার্যক্রম শুরু হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। এছাড়া দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরে জুলাই শহীদ এবং যোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়।
এছাড়া বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মিশরের বিখ্যাত আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সভাপতি নোমানুল করিম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল আমিন আকন্দ, ইয়াসমিনা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক ইব্রাহীম হাসান। এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে। আলোচনা সভার শেষে নৃত্যসহ সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়।
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল সাহসী জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকার জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের একটি নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত লড়াই, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল সোনালি ইতিহাসকে স্মরণ করে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষের এই অপরিসীম সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে এক নতুন বাংলাদেশ গঠনে গণমানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং আমাদের সকলেরই এ উদ্যোগে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা উচিত।
আলোচনা সভার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া দূতাবাস প্রাঙ্গণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আগত অতিথিদের আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখান এবং বিভিন্ন আলোকচিত্রের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিশরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রথিতযশা অধ্যাপক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নারী উদ্যোক্তা, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ।
অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :