নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভিন পপি। দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয়জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও দর্শকের কাছে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিজীবনে পরিবার নিয়ে নানা টানাপোড়েনের কথা এবার প্রকাশ্যে আনলেন এই অভিনেত্রী। পপির ভাষ্য, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে তিনি পরিবারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন বা মানসিক সমর্থন পাননি। বরং তাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পপি বলেন, ৩০ বছর কষ্ট করেছি। কখনও আমার কষ্ট তারা উপলব্ধি করেনি। আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের চাহিদার শেষ ছিল না। যত পেয়েছে, ততই চাহিদা বাড়ত। ১৯৯৬ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পপির। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিংসহ বিভিন্ন জায়গায় পপির সঙ্গে তার মাকে দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। পপির মায়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে নানা অভিযোগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে পপি তার সঙ্গে থাকা নারীকে ‘সৎমা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সৎমা কখনও আপন হয় না।” সিনেমায় আসার পেছনে যার ভূমিকা ছিল, তাকেও গণমাধ্যমে সৎমা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।
নিজের জীবনে সৎমার সংসার থেকে পাওয়া আঘাতের কথাও তুলে ধরেন পপি। তিনি বলেন, সৎমার সংসার থেকে যে পরিমাণে আঘাত পেয়েছি, সেই ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র থেকে অনেকটা আড়ালে থাকা পপি বর্তমানে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ফের আলোচনায় এসেছে ব্যক্তিজীবনের নানা টানাপোড়েন ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি।

আপনার মতামত লিখুন :