কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।। একসময় যে খালটি ছিল ভয় আর দুর্ভোগের কারণ, এখন সেই খালের ওপরই তৈরি হয়েছে মানুষের স্বস্তির পথ। শিশুদের চোখে এখন আর বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার আতঙ্ক নেই, আছে নিরাপদে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বিপাড়া এলাকার বড়হরপাড়া খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে নান্দনিক একটি ভাসমান সেতু। ১৬৫ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট প্রশস্ত এই সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ ও ৪০টি প্লাস্টিকের ড্রাম।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাত্র ১৫ দিনে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। খালের ওপর নির্মিত এই ভাসমান সেতুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শতাধিক শিক্ষার্থীর ঝুঁকি ও ভোগান্তি কমেছে।
আগে শিক্ষার্থীদের বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে সেই ঝুঁকি আরও বাড়ত। এখন ভাসমান সেতুটি তাদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের আশা, সেতুটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে দীর্ঘদিন এটি মানুষের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে খালের ওপর থাকা লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকে খাল পারাপারে ভেলা, নৌকা ও বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হতো গ্রামবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তেন স্কুলশিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের মধ্যে ভাসমান সেতুটি নির্মিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের কাছে এটি শুধু চলাচলের একটি মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তির নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে ভাসমান সেতুটির পাশাপাশি এই খালের উপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক এমটাই প্রত্যাশা তাদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে নান্দনিক ভাসমান সেতুটি পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর মো.জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই আমরা সেতুটি নির্মাণ করেছি। উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমাদের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ভাঙা থাকায় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিলেন। ভাসমান সেতু নির্মাণের ফলে তাদের কষ্ট অনেকটাই কমেছে।
ভাসমান সেতুটি পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, মানুষের চলাচলের কষ্ট লাঘবে এমন ভাসমান সেতু নির্মাণ অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সেতুটি সুন্দর ও কার্যকর হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ডু সামথিং ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আপনার মতামত লিখুন :