পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৯০) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। রিবারিক কবরস্থানে তার জন্য খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে গভীর রাতে লোকজন না পেয়ে মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে নিজেরাই কবর খুঁড়ে বাবাকে দাফন করেন তার মেয়ে ও বোনেরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিতলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মানিক পশারী ওই গ্রামের মেহেচান পশারীর ছেলে। শনিবার সকালে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরে বেলা দুইটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হলেও বিকেল চারটার দিকে উত্তেজিত স্থানীয়রা সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে তার দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মানিক পশারী একজন তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে গোপনে পুলিশ লাইনসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় তার গ্রামের বাড়িতে গ্রাম পুলিশের পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়। মানিক পশারীর মেয়ে সুমি বেগম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাবাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা বলা হয়। কিন্তু রাতে কবর খোঁড়ার জন্য কোনো লোক পাওয়া যায়নি।
পরে তিনি ও তার দুই ফুফু মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে নিজেরাই কবর খোঁড়েন। এরপর বাবাকে দাফন করেন। মৃত্যুকালে মানিক পশারী এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে তিন মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন :