নীলফামারীর দারোয়ানিতে আন্তঃনগর ট্রেনসহ সব ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতির দাবিতে ট্রেন আটকে অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। এতে প্রায় চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯ টার দিকে দারোয়ানি টেক্সটাইল এলাকায় ট্রেন থামিয়ে এ অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।
অবরোধকারীরা জানান, দারোয়ানি টেক্সটাইল এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চল। এখানে নিয়মিত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দূরদূরান্তে মালামাল পরিবহনে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এলাকায় উত্তরা ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা থাকায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা জরুরি বলে দাবি তাঁদের।অবরোধের কারণে রকেট মেইল ট্রেনটি দারোয়ানি স্টেশনে আটকা পড়ে।
অন্যদিকে, চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ প্রত্যাহার করেন এলাকাবাসী।
দারোয়ানি এলাকার বাসিন্দা মো. শাকিব ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে ট্রেন থামত। ২০০৩ সাল থেকে আর ট্রেন থামে না। শুধু রকেট মেইল থামে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন থামানোর দাবি জানিয়ে আসছি। কেউ আমাদের কথা শোনেনি। তাই আজ ট্রেন আটকে অবরোধ করেছি।
একই এলাকার নূর আলম বলেন, আমাদের স্টেশনের পাশেই ইপিজেড। সেখানে অনেক শ্রমিক কাজ করেন। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। স্টেশনটি চালু হলে তারা উপকৃত হবেন। কিন্তু স্টেশনটি বন্ধ থাকায় টিকিট কাটতে আমাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নীলফামারী যেতে হয়।
আহসান হাবিব স্বপন বলেন, এই এলাকার পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল পরিবহন করেন। স্টেশনটি চালু না থাকায় বাড়িত খরচ বহন করতে হয়। তাই আমাদের প্রধান দাবি, এখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, আমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা স্টেশনটি চালুর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। এখানে আরও কোন কোন ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া যায়, সে বিষয়েও কথা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।

আপনার মতামত লিখুন :