ইতালিতে মজুরি বাড়ানো, সরকারি সেবা জোরদার ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। শুক্রবার দেশটির ৪০টির বেশি শহরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোরও প্রতিবাদ জানান তাঁরা। বিক্ষোভের বড় অংশজুড়ে ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমিকেরা।
শ্রমিক সংগঠন ইউনিওনে সিন্দাকালে দি বাজে (ইউএসবি) ২৪ ঘণ্টার এই সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। চলতি মাসের শুরুতে ইতালিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছিল; তখন কেউ কেউ দোকানপাটে লুটপাট ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। তবে শুক্রবারের বিক্ষোভ বেশির ভাগ জায়গায় শান্তিপূর্ণ ছিল, যদিও কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুরিনে কেন্দ্রীয় সরকারের স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীর দিকে এগিয়ে যান শিক্ষার্থী ও বামপন্থী কর্মীরা। তাঁদের ঠেকাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
রাজধানী রোমে কলোসিয়ামের কাছে বড় মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা জানান, সেখানে তাঁবু খাটিয়ে পুরো সপ্তাহান্ত অবস্থান করবেন। সন্ধ্যায় একটি বড় দল পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বার্তা সংস্থা এএনএসএ জানায়, তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। বারবার ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টায় আটজনকে আটক করা হয়। বিক্ষোভের কারণে রোমে যানজটে ভোগান্তি তৈরি হয়।
মিলানে বিক্ষোভকারীরা শহরের রিং রোডে মিছিল করেন। পরে পলিটেকনিকো দি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কর্মসূচি শেষ হয়। এ সময় তাঁরা হাতে মশাল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেন। জেনোয়া বন্দরে প্রায় ১৫ হাজার বন্দরশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও অন্য বিক্ষোভকারী জড়ো হন। বন্দর ব্যবহার করে অস্ত্র রপ্তানির বিরোধিতা করেন তাঁরা। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন সংঘাতে নাবিকদের প্রাণহানির বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁরা।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াতেও সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ হয়েছে। ইউএসবি আরেকটি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিতে পারে বলেও জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :