ঢাকা শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান, ছাত্রদলের পদ হারিয়ে মিষ্টি বিতরণ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫৫ দুপুর

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক শাকিলকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বহিষ্কারের খবরে ক্ষুব্ধ না হয়ে উল্টো সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা শাখার অধীন সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল এবং সেনবাগ পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়ালিদ বিন হায়দার আদনানকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে বহিষ্কারের আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেনবাগে মিষ্টি বিতরণ করেন ওমর ফারুক শাকিল। এ বিষয়ে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি খুশিতেই মিষ্টি বিতরণ করছি। আলহামদুলিল্লাহ। পদত্যাগের পরও বহিষ্কার-এটাই বাস্তব। একজন ওমর ফারুক শাকিল আবিষ্কার কঠিন, বহিষ্কার সহজ। তিনি আরও বলেন, প্রহসনমূলক বহিষ্কার দিয়ে বসন্তের আগমন ঠেকানো যায় না। ইনশাআল্লাহ, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের সঙ্গেই আছি। ১২ তারিখ তাকে নির্বাচিত করেই ঘরে ফিরব।

ওমর ফারুক শাকিল দাবি করেন, বহিষ্কারের আগেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ দল এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি বিগত স্বৈরাচারের আমলে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের ছেড়ে যাননি। মামলা ও হামলার সময় তাদের পাশে ছিলেন। তাই ঘোষণা দিয়েই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি ভেবেছিলাম হয়তো স্থায়ী বহিষ্কার হবে। কিন্তু দল আমার ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করেছে। যোগ্য নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন হয় না। ইনশাআল্লাহ, ফেরাটা হবে রাজার বেশেই।

ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। হাবিবুর রহমান সুমন নামের মিষ্টি পাওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, হঠাৎ মিষ্টি পেয়ে আমরাও অবাক হয়েছি। সাধারণত বহিষ্কারের খবরে মানুষ মন খারাপ করে, কিন্তু তিনি হাসিমুখে মিষ্টি দিলেন। রাজনীতি এমনও হতে পারে-এই ঘটনাই তার উদাহরণ।

 

Link copied!