ঘরের মাঠে সব সময়ই শক্তিশালী দল ভারত। নিজেদের মাঠে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রীতিমতো আকাশে উড়ছিল স্বাগতিকরা। একের পর এক জয়ে অপরাজিত থেকেই সুপার এইটে উঠেছিল টিম ইন্ডিয়া। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে থাকা ভারতকে এবার মাটিতে নামিয়ে আনল দক্ষিণ আফ্রিকা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে প্রোটিয়াদের কাছে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে লজ্জার রেকর্ডের মুখে পড়েছে ভারত। মেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর চেয়ে বড় ব্যবধানে আর কখনোই হারেনি ভারত।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেই প্রথমবার এ স্বাদ পেল দলটা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে কখনো ৫০ রানের ব্যবধানেও হারেনি দলটা। এর আগে দলটার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার ছিল ৪৯ রানের, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ বিপাকে পড়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য এর চেয়ে বড় ব্যবধানের হার আছে ভারতের। ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮০ রানে হেরেছিল তারা। গত রাতের এ হার ভারতের ইতিহাসেরই দ্বিতীয় বৃহত্তম হার।
এ হারে থেমে গেল ভারতের টানা ১২ ম্যাচ জয়ের ধারা। ২০২২ আসরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-এর কাছে হারের পর থেকে এ জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। এটিই ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেকোনো দলের টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড।
এ হারে আরও একটা ধারা শেষ হয়েছে ভারতের। আইসিসি পুরুষদের সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টে ভারতের টানা ১৭ জয় ছিল এ ম্যাচের আগে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর থেকেই অজেয় হয়ে উঠেছিল দলটা। সে ধারাতেও ছেদ টেনেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভুলে যাওয়ার মতো এ ম্যাচে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন জসপ্রিত বুমরাহ। তার উইকেট এখন ৩৩টি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে এটিই সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও আর্শদীপ সিংকে। তাদের উইকেট ছিল ৩২টি করে।
এ বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটাররা এখন পর্যন্ত ১১ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। এটি এ আসরে যেকোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। একটি আসরে ভারতেরও এটি সবচেয়ে বেশি শূন্য। ২০২৪ সালে ছিল ৬টি।
এ ম্যাচটা ভারত হেরেছে মাঝের ওভারেই। ২০ রানে ৩ উইকেট খোয়ানো দক্ষিণ আফ্রিকা মাঝের ওভারেই পাওয়ারপ্লের ঘাটতি পুষিয়েছে। ৭ থেকে ১৬ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ১১১ রানে ২ উইকেট। এ পর্যায়ের আসরে এর চেয়ে বেশি রান করেছে শুধু নিউজিল্যান্ড। তারা কানাডার বিপক্ষে করেছিল ১১৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঝের ওভারে ভারতের দেয়া যৌথ সর্বোচ্চ রানও এটি। ২০০৭ সালের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াও করেছিল ১১১ রান, ২ উইকেট খরচায়।

আপনার মতামত লিখুন :