কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৪মার্চ।। সাগর থেকে খুব বেশি দূরে নয়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার সংলগ্ন আমিরাবাদ গ্রাম। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে অনেক কৃষকের জমি ফাঁকা পরে থাকতো। তাই এবছর লবনাক্ত ও পতিত জমিতে লবন সহিষ্ণু জাতের গম উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন জাত উন্নয়নে গবেষনা কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষনা ইনস্টিটিউট’র সহযোগিতায় অন্তত ৩০ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে গমের চাষ করেছেন ।
প্রথমবারই পেয়েছে বাম্পার ফলন। শুধু ভালোই নয়, প্রত্যাশার চেয়েও ফলন হয়েছে বেশি। তবে নামমাত্র খরচে পতিত জমিতে গম উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চান এসব কৃষকরা। কৃষকদের গবেষনা নতুন কার্যক্রম গম ক্ষেত শুক্রবার বিকেলে পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আবদুল্লাহ আল মামুন ও উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো.মনোয়ার হোসেন।
এসময় কৃষক গোলাম সরোয়ার বাড়ির উঠানে কৃষকদের অংশগ্রহণে গমের জাত নির্বাচন গবেষনায় গমের অগ্রবর্তী লাইনসমূহের মাঠ মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গম চাষ করে সফল কৃষক গোলাম সরোয়ার বলেন, লবণাক্ততার কারণে বছরে ৬ মাস জমি অনাবাদি থাকে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের পরামর্শ ১০ বিঘা জমিতে গম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো গম চাষ করে সফল হওয়ায় তার ক্ষেত দেখতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা আসেন। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, দক্ষিনাঞ্চলে আমন ধান সংগ্রহের পর অধিকাংশ জমি পতি পতিত থাকে। লবন সহিষ্ণু গম চাষাবাদ করে এসব জমি চাষাবাদের আওতায় আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এদের সফলতা দেখ অন্যান্য কৃষকরা উৎসাহিত হবে।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কলাপাড়া উপজেলায় লবনাক্ত ও পতিত জমিতে গম চাষ করে বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লবনক্ত এলাকায় লবন সহিষ্ণু গমের জাত উন্নয়নের লক্ষে প্রাথমিক পর্যায় গবেষণা ল্যাবে হাইড্রো পোনিক পদ্ধতির মাধ্যমে স্ক্রেনিং বাছাই করা হয়। তিনি বলেন, এখানকার কৃষক লবন সহিষ্ণু ৮ জাতের গম বীজ চাষ করেছে। তবে যে গমের জাত ভালো উৎপাদন হবে সেই জাত উপকূলীয় এলাকায় চাষাবাদ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :