মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২০

আজ ২২ জানুয়ারি ২০২০ইং রোজ বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় ৩১/১, শরিফ কমপ্লেক্স (৬ষ্ঠ তলা) পুরানা পল্টন ঢাকাস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানীর উদ্যোগে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে এক কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সভাপতি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাই সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ভারত থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। উক্ত দিনটি জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। ভারত উপমহাদেশে তিনি যখন রাজনীতি শুরু করেন এর পরেই শুরু হয় পাকিস্তান নামক দেশটির জন্ম হয়। পাকিস্তান জন্মের পরপরই আসাম থেকে তিনি পাকিস্তানে আসেন। পাকিস্তানিদের মনোভাব তিনি উপলব্ধি করে ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম দেন। এরপর তিনি আওয়ামীলীগেরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৭ সালে আওয়ামীলীগ বর্জন করে কাগমারীর জনসভায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানী গঠন করেন এবং ঐ একই দিনে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে সনাক্ত করে ও ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলাবে বলে প্রচার করে।
সেই সময় সাংগঠনিকভাবে আওয়ামীলীগ ছিল দুর্বল। মওলানা ভাসানী বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুললেন “জেলের তালা ভাঙ্গবো শেখ মুজিবকে আনবো”। সমগ্র পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর হৃৎপিন্ড থরথর করে কেঁপে উঠল। পরিশেষে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো এবং ১৯৭০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই নির্বাচন মওলানা ভাসানী বর্জন করলেন। আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেল এরপর বিভিন্ন তালবাহানায় বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা অর্পন করা হলো না। এরপর শুরু হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ। শেখ মুজিব কারাগারে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রবাসী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পক্ষে বার্তা পাঠালেন। ইন্দিরা গান্ধীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ৮ই জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেল বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১০ই জানুয়ারি তিনি লন্ডন হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং বাংলাদেশে আসেন। ২২ই জানুয়ারি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
কর্মী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব ইমরুল কায়েস, ঢাকা মহানগরের সভাপতি এ্যাড. মহিউদ্দিন আহমেদ জুয়েল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু বক্কর, এ্যাড. আলতাফ, এ্যাড. শাহনাজ, ঢাকা মহানগরের সদস্য রবিউল ইসলাম, আবু মোতালেব প্রমুখ।