সাপাহারে মানবতার সেবাই দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কে এই যুব নারী

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০২০

হাফিজুল হক,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ সাপাহারে মানবতার সেবাই দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কে এই যুব নারী, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে একের পর এক সেবা, খাদ্য ও আর্থিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ফেসবুক পোষ্ট : স্বামীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জেসমিন (৩৩) নামে এক গৃহবধুর উপর পাষবিক নির্যাতন চালিয়ে মাথার সমস্ত চুল কেটে ফেলে দেওয়ার ঘটনা দেখার পর নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাপাহার যুব মহিলা লীগের নারী নেত্রী নুরে জান্নাত ময়না।

সাংবাদিকদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন পাষবিক স্বামীর নির্যাতিত অসহায় মহিলাটি সাপাহার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। তখন তিনি মাগরিবের নামাজ পড়ে ছুটে যান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে এক নজর দেখার জন্য যেয়ে দেখেন ওই অসহায় মহিলার কোন নিকট আত্মীয় বা কেউ নেই তার পাশে এমনকি মেডিকেল হতেও খাবার কোন ব্যবস্থা করা হয়নি মেয়েটির জন্য তখন সে নারী নেত্রী তার খাওয়ার ব্যবস্থা সহ থালা গ্লাস নিজ উদ্যোগে নিজের থেকেই তাকে দিয়ে এক নজিরবিহীন মানবতার সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

অসহায় গৃহবধু জেসমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর সাহেব গ্রামের নূরল ইসলামের মেয়ে।
উপজেলার হাপানিয়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এর সাথে প্রায় এক বছর আগে বিবাহ সম্পন্ন হয় তার । বিয়ের পর দু’তিন মাস ভালো ভাবেই কেটেছে তাদের দাম্পত্ত জীবন। এর পর থেকেই শুরু হয় স্বামী ও শাশুরি কর্তৃক মানুষিক, শারীরিক সহ নানা ধরনের পাষবিক নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ২৩ মে পার্শ্ববর্তী এক ধর্ণাঢ্য ব্যাক্তিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট কুৎসার রটানোর জন্য ওই গৃহবধুকে কুপ্রস্তাব দেন তার স্বামী রফিকুল ইসলাম। একজন নিরাপরাধীর ব্যাক্তির বিরুদ্ধে কুৎসার রটানোর মত যঘন্যতম স্বামীর দেয়া কুপ্রস্তাব প্রত্যক্ষান করে ওই গৃহবধু। যার কারনে তার উপর স্বামী কর্তৃক চালানো হয় পৈচাষিক নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে ওই গৃহবধুর মাথার সমস্ত চুল কাচি দিয়ে কেটে ফেলে দেয় তার পাষন্ড স্বামী।

এসময় তাকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানুসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। এ ঘটনা লোক মাঝে জানাজানি হলে তাকে প্রানে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় তার স্বামী ও শাশুড়ি। স্বামী ও শাশুড়ির হুমকির প্রেক্ষিতে নিজের প্রান হারানোর ভয়ে ঘটনাটি তিনদিন ধরে গোপন রাখে ওই গৃহবধু। গতকাল সোমবার বিকেলে ওই গৃহবধু পুকুর ঘাটে গেলে এলাকাবাসীর মাঝে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এরপর থেকেই গৃহবধুর স্বামী ও শাশুড়ি পালাতক রয়েছে। মেয়েটির শারীরিক অবস্থা অবনতি দেখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ আজ বিকালে সাপাহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে রেখে জান।

নারী নেত্রী সাপাহার উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক নুরে জান্নাত ময়না ঐ অসহায় গৃহবধূকে তার অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস করলে সে মৃদু সুরে বলে আমার যা হবার তা হয়ে গেছে কিন্তু তার পাষণ্ড স্বামীর ন্যায্য বিচার সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের নিকট দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন :